আমার ‘মা’ সব দিনই মা…

‘মা’ শুধু একটি শব্দ নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন, একটি অর্ন্তনিহিত বৈশ্বিক স্বর্গ। যে স্বর্গে নেই কোন বৈষম্য, নেই কোন হারানোর চিন্তা। ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিং বলেছেন মাতৃত্বেই সকল মায়া-মমতা ও ভালবাসার শুরু এবং শেষ। পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল ব্যবহারিত এবং জনপ্রিয় শব্দ হচ্ছে মা। মাকে নিয়ে লেখা হয়েছে হাজার হাজার পৃষ্ঠার গল্প, কথা, গান, রচিত হয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত উপন্যাস। আর এতো কিছু করা হয়েছে শুধুই মায়ের দেয়া ভালবাসার কিছুটা ঋণ পরিশোধ করতে, কিন্তু আজোবধি কোন বিখ্যাত সাহিত্যিক কিংবা স্থপতি সক্ষম হননি মায়ের ঋণের কিনচিৎ প্রতিদান দিতে। শুধুই মাকে স্মরণ করে বছরের একটি দিন পালন করা হয় আর্ন্তজাতিক মা দিবস হিসেবে। কিন্তু এই দিবসটি একদিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কথিত মতে বলা হয় ব্রিটেনেই প্রথম মা দিবস পালনের রেওয়াজ আরম্ভ হয়, আবার মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টসের মাধ্যমে হয়েছে বলে ধরা হয়। তবে ইতিহাসের পাতায় পদচারনা করলে দেখা যায় যে যীশূ খ্রিস্টের জন্মের আগেও মিশর, গ্রীস কিংবা রোমে মা দিবস পালিত হতো। তবে সেটা আমাদের মতো জন্মদাত্রী মাকে স্মরণের জন্যে নয়, দেবতাদের মায়েদের সন্তুষ্ট করার জন্য পূজা করা হতো। এভাবেই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে মা দিবস পালনের সূত্রপাত হতে থাকে, ১৯১৪ সালের ৮ ই মে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঊড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মা দিবস পালনের ঘোষণা দেন এবং এরপর ১৯৬২ সাল হতে এই দিনটিকে
আর্ন্তজাতিক মা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। আর এরই রেশ ধরে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় মা দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৬ টি দেশে মা দিবস পালন করা হয়, তবে দেশভেদে মা দিবস পালনের যথেষ্ঠ বৈচিত্যতা লক্ষনীয়, যেমন আর্জেন্টিনায় এই দিনটিতে সংসারের সব কাজ বাবাকেই করতে হয়, মা শুধু উপহার গ্রহণ করেন। ফ্রান্সের বিষয়টি মজার, সেখানে যে মায়ের যত সন্তান বেশি হবে তিনি তত বেশি পুরস্কৃত হন। মূলত মা যে কী, তা বলার ভাষা বা কালি, মুখে কিংবা কোন কলমে নাই, আমাদের চারপাশের পরতে পরতে মায়ের অবদান আমরা সদা অবলোকন করি। একটি ক্ষুদ্র কীট মা মাকড়শা, তার সন্তানদের বাচিয়ে রাখতে শেষে নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে দেয়। সুতরাং মা শব্দটি আসলে একদিনের জন্য নয়, প্রতি মুহূর্তের আর্শীবাদ। এতো কিছু বলার পরেও মাকে উদ্দেশ্য করে একটি কথাই বলতে হয় ‘আমি পৃথিবী চাই না মা, আমি স্বর্গের উদ্যান চাই না, আমি শুধু তোমাকে ‘মা’ বলে ডাকতে চাই।’

একটি টোকাই কৌতুক

পার্কের বেঞ্চিতে শুয়ে ঘুমোচ্ছে এক টোকাই, পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক বিড়ি কোম্পানির মালিক।
বিড়ি অলা: কিরে টোকাই, তোর কোন কাজ নাই, পার্কে ঘুমাচ্ছিস?
টোকাই: কী কাম করুম স্যার, ঘুমাইতে মজা।
বিড়ি অলা: আমার বিড়ি বেচার কাজ কর, টেকা পাবি।
টোকাই: টেকা দিয়া কী করুম?
বিড়ি অলা: টেকা জমাবি. আমার মত বড়লোক হবি. বাড়ি গাডি করবি।
টোকাই: এইসব দিয়া আমার কাম কী:
বিড়ি অলা: তোর ত দেখি বড় হবার স্বপ্ন নাই, আরে বেকুব, বড়লোক হইলে আরাম থাকতে পারবি, মজা করে ঘুমাতে পারবি।
টোকাই: আরে স্যার, আমি ত মজা করেই ঘুমাচ্ছিলাম।

এসএসসি ও সমমানে পাস ৮৬.৩৭ শতাংশ

আবুল কালাম আজাদ

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হবে আজ সোমবার। দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষার ফল একযোগে প্রকাশ করা হবে।

সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফল হস্তান্তর করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে দেখা গেছে এবার এসএসসি ও সমমানে পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ফলাফল হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল জিলা স্কুল, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বরিশাল কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।

পরে দুপুর ১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবারের ফলাফল এবং দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন।

এরপর দুপুর আড়াইটা থেকে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্র, কলেজ ছাড়াও শিক্ষামন্ত্রণালয়ে ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন।
Continue reading

জাবি ভিসির রাজত্ব টিকছে না

তিনি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশ্যই অখ্যাত ভাইস চ্যান্সেলর। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়ায় তিনি আর উপাচার্য থাকতে পারছেন না।

প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষকদের দাবির মুখে তিনি শুধু নন প্রধানমন্ত্রীও বিব্রত। গত কয়েক বছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাসের রাজত্ব চলছিল। এসব বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। কিছুদিন আগে জোবায়ের আহমদ নামের এক ছাত্র খুন হয় ছাত্রলীগের হাতে। কিন্তু বিচার করা হয় নি। Continue reading

কেউ রাখে না দেনার খবর

কাজী যুবাইর

তোর -
কত আছে দেনা,
ওরে ,
একবারও ভাবলি না ;
কার ‘জহতে’ সিন্নি খাইলি-
মোল্লারে চিনলি না্ ।

নদীর কাছে দেনা আছে,
দেনা জলের কাছে;
আর তুই -
ধনের মায়ায় নদীর দেনা
ভুইলা গেলি পাছে;
তোর
পাগলা মনে আউলা ভাবনা-
মনরে সুখ দিলি না।

গাছের কাছে দেনা আছে,
দেনা আছে ফলে;
আর তুই -
ভাবিস যে কী, মায়ের কথায়
হৃদয় নাহি গলে;
তোর
হায়াৎ এখন কত হল-
তারও খোঁজ রাখলি না।

জাতীয় বাজেট এবং ছকের ধাঁধাঁ

বাংলাদেশে বহু বছর ধরে যে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে তা নিশ্চিতভাবেই ছক বাঁধা। এই ছকে আছে জট, জট থাকার কারণেই সাধারণের কাছে বাজেট যেন একটা ধাঁধা। জাতীয় বাজেট গেল কয়েক বছর ধরেই ঘাটতি বাজেট আকারে আসছে।

সাধারণ মানুষ বাজেট বিষয়ে জানতে চাইলেও জানার সুযোগ খুব একটা বেশি নেই। পত্রিকার পাতায় বাহজট সম্পর্কে যা আসে তাকেই মানুষ বাজেটের খসড়া ভাবে। তা যে বাজেট নয় তা কে বা বোঝে। বাজেট মানে অমুক জিনিসের দাম কমে-বাড়ে এই যেন বাজেট আলোচনা।

সাধারণ মানুষের মাঝে রাজনীতিকদের ফেলা যায় না। রাজনীতিকরাও কোনটার দাম বাড়ল আর কোনটার কমল তা নিয়ে মাতামাতি করে। এতে রাজনৈতিক কিছু ফায়দা লুটার চেষ্টা থাকে। প্রকৃত দেশপ্রেম এখানে অগ্রাহ্য হয়।

ধরুন, আপনি কলা কিনার জন্য ২ টাকা বাজেট বরাদ্দ দিলেন, কিন্তু বছর শেষ হবার পরও কলা কেনা হলনা। পরের বছর আবার কলার জন্য বরাদ্দ দেয়া হল, একই ভাবে বছর শেষ হলেও কলা কেনা হল না। বা আংশিক কেনা হল, তাই পরের বছর আবার কলার জন্য বরাদ্দ দিতে হয়। প্রত্যেক বছর কলার জন্য বরাদ্দ দেয়া হলে দুধ কেনা হবে কবে? আর তাছাড়া প্রথমবার কলার জন্য যে বাজেট দেয়া হয়েছিল সে টাকার কী হল? এভাবে চললে দেশ এগুয় না। প্রতিবছর দারিদ্র্য দূরিকরণে যে পদক্ষেপ নেয়া হয় তার কিছুই বাস্তবায়ন হয় না। একবারের বাজেটে তা পূরণ হলে পরের বার দারিদ্র্য দূরিকরণ কর্সূচির প্রয়োজন হত না।

বাজেটে উন্নয়ন অংশের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয়-একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝতে পারা যাবে যে প্রতি বছর একই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এক বছর যে খাতের জন্য ভর্তুকি দেয়া হয়, পরের বছরও তাতে ভর্তুকি দিয়ে দেয়া হয়।

প্রশ্ন হল বাজেট করার সময় যে খাতে ভর্তুকি দেয়া হয় তাতে কী আজীবন ভর্তুকি দিয়ে যেতে হবে? প্রথম বছর ভর্তুকি দেয়ার মাধমে ওই খাতটির উন্নয়ন ঘটলে ভর্তুকি দেয়ার কি প্রয়োজন পড়ে?
Continue reading

আয়ু আজ শেষ

আমার আয়ু আজ শেষ
শশ্মানের মড়ার শেষ
অস্থি ভষ্মে
গগনের জলন্ত অনলের
শিশিরে ?
জীবন থাকার নয়।
তিমিন আধারের সব
জোনাকি আজ মৃত
বাশির সুর
কান্নার ধ্বণিতে স্তিমিত
রজনীগন্ধার পরিবর্তে আসে
লাশের নির্মম আকুতি
আমি কি জেগে আছি ?
ফিনকি দেয়া রক্তে তারা
পিপাসা মেটায়
ক্ষুধিত বন্যে তারা
আজ বন্য,
সবিনয়ের অভিনয় নয়নে
আদিমের অদম্যতায়
এ হৃদয় হচ্ছে পুঞ্জীভূত।
আমি মহাকালের
কাল হয়ে যাচ্ছি
আমার আয়ু আজ শেষ।

বদলে যাচ্ছে ‘সেক্সি’ শব্দের অর্থ!

‘সেক্সি’ শব্দটা নেতিবাচক অর্থে গ্রহণ করা উচিত নয়—এমন মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন ভারতের জাতীয় নারী কমিশনের প্রধান মমতা শর্মা। এরপর সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের শব্দের অর্থও বদলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন মমতা শর্মা। আজ রোববার বিহারে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। Continue reading

বৈশাখী ঝড়

কাজী যুবাইর

বৈশাখী ঝড়,
তুই বিজলি নিয়ে আয়,
উড়িয়ে ধুলো
আয়;
একটুখানি বাতাস এনে
মাখিয়ে দে না গায়।

বৃষ্টির ফোটা দিয়ে,
মেঘেরও দাগ
ছড়িয়ে,
একটু স্বস্তি দে না;
অশান্ত মনটা আমার
শিমুলের তুলো যেন
দেশান্তরে যায়।